Islam (ইসলাম), Muslim Farayez Law, Sadaqah, Sadaqah Jariyah, Waqf

Difference between Waqf and Osiot (ওয়াকফ ও অসিয়তের মধ্যে পার্থক্য)

Difference between Waqf and Osiot (ওয়াকফ ও অসিয়তের মধ্যে পার্থক্য)

প্রত্যেক ব্যক্তিই ওয়াকফ করার পাশাপাশি অসিয়তও করতে পারে।
তবে ওয়াকফ ও অসিয়তের মধ্যে পার্থক্য আছে।

১. ওয়াকফ হলো মূল স্বত্ব নিজের রেখে বস্তুর উপকার দান করা,
অন্যদিকে অসিয়ত হলো দানের মাধ্যমে মৃত্যুর পরে বস্তুগত বা অবস্তুগত (উপকার) জিনিসের মালিক বানানো।

২. বেশির ভাগ আলেমের মতে, ওয়াকফ করলে তা বাস্তবায়ন অত্যাবশ্যকীয় হয়ে পড়ে এবং ওয়াকফ ফেরত নেওয়া যায় না। কেননা রাসুল (সা.) ওমর (রা.)-কে বলেছেন, ‘তুমি ইচ্ছা করলে জমির মূল স্বত্ব ওয়াকফে আবদ্ধ রেখে উৎপন্ন বস্তু সদকা করতে পার।’ (বুখারি, হাদিস : ২৫৮৬)

অন্যদিকে অসিয়ত করলে বাস্তবায়ন অত্যাবশ্যকীয় হলেও অসিয়তকারী তার অসিয়তের পুরোটাই বা আংশিক ফেরত নিতে পারবে।

৩. ওয়াকফকৃত বস্তু কারো মালিকানায় প্রবেশ করা থেকে বেরিয়ে যাবে, শুধু বস্তুর উপকার যাদের জন্য ওয়াকফ করা হয়েছে তাদের জন্য নির্ধারিত হবে।
পক্ষান্তরে, অসিয়তের বস্তু যাদের জন্য অসিয়ত করা হয়েছে তাদের মালিকানায় যাবে বা এর উপকার অসিয়তকৃতদের জন্য নির্ধারিত হয়ে যাবে।

৪. ওয়াকফের উপকারের মালিকানা যাদের জন্য ওয়াকফ করা হয়েছে তারা ওয়াকফকারীর জীবদ্দশায়ই পাবে এবং তার মৃত্যুর পরও ভোগ করবে।
কিন্তু অসিয়তের মালিকানা অসিয়তকারীর মৃত্যুর পর ছাড়া ভোগ করতে পারবে না।

৫. ওয়াকফের সর্বোচ্চ সীমা নির্দিষ্ট নয়।
পক্ষান্তরে অসিয়তের সর্বোচ্চ সীমা ইসলাম কর্তৃক নির্ধারিত। আর তা হলো মোট সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশ। একজন মুসলমান তাঁর সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশের বেশি ইচ্ছাপত্র / অসিয়ত মূলে কাউকে দান করতে / দিতে পারেন না। যদিও ওয়ারিশের অনুমতি সাপেক্ষে এর বেশি করা যায়। কিন্তু, কোনো ওয়ারিশ তাতে আপত্তি করলে তা কার্যকর হয় না।

৬. ওয়ারিশের জন্য ওয়াকফ করা জায়েজ,
কিন্তু ওয়ারিশের অনুমতি ছাড়া ওয়ারিশের জন্য অসিয়ত করা জায়েজ নেই।

৭. ওয়াকফ সম্পত্তি বিক্রি করা, এর মালিকানা গ্রহণ করা কিংবা জবরদখল করা জায়েয নেই। অনুরূপভাবে মীরাছের সম্পত্তির মধ্যে গণ্য করে ভাগ করে ফেলাও জায়েয নেই।

উমর বিন খাত্তাব (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদিসে এসেছে তিনি যখন খায়বারে তার মালিকানাধীন একটি জমি ওয়াকফ করতে চাইলেন তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন: “এটি বিক্রি করা যাবে না, কাউকে উপহার দেয়া যাবে না, কেউ এর ওয়ারিশ হতে পারবে না…”[সহিহ বুখারী (২৭৬৪) ও সহিহ মুসলিম(১৬৩৩)]
তবে ওয়াকফ প্রশাসনের অনুমতিক্রমে উন্নয়নের স্বার্থে অথবা অধিক লাভজনক কারণে বিক্রি করা যায়। 

কিন্তু, অসিয়তের মাধ্যমে প্রাপ্ত সম্পত্তি নিজের সম্পত্তি হিসেবেই বেচা-কেনা করা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


The reCAPTCHA verification period has expired. Please reload the page.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.